লন্ডন থেকে প্রকাশিত শিল্প ও সাহিত্যবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘দ্য হোয়াইট রিভিউ’-কে ২০১৭ সালে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কার্সন। লেখক ও সম্পাদক জেলকা মারোশেভিচের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি ইমেইলের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস ধরে পরিচালিত হয়েছিল। নিজের লেখালেখি, সৃষ্টিশীলতা এবং কাজ করার পদ্ধতি নিয়ে এই ব্যতিক্রমী কথোপকথনে কার্সনের স্বকীয় চিন্তার ধরন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাক্ষাৎকারটিতে তাঁর বিভিন্ন বই ও কবিতার ভেতরের সংযোগ এবং লেখার পেছনের ভাবনাগুলো উঠে এসেছে।
সাক্ষাৎকারে অ্যান কার্সন সব প্রশ্নের দীর্ঘ উত্তর দেননি। কখনো তিনি একটি মাত্র শব্দে উত্তর দিয়েছেন, কখনো আবার তা কয়েকটি বাক্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এমনকি কোনো কোনো প্রশ্নের কোনো উত্তরই তিনি দেননি। তাঁর কাজ ও চিন্তার ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর বেশিরভাগ ভাবনাই মূলত ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আবর্তিত হয়। একটি বাক্যের দুটি সমার্থক বিশেষণের ভেতরের সূক্ষ্ম পার্থক্য কিংবা কোনো ছবিতে ভ্রুর রেখা সোজা হবে কি না—এ ধরনের বিষয়ই তাঁকে বেশি টানে। বাকি বিষয়গুলো তাঁর মতে পরে ঘটে যাওয়া প্রতিক্রিয়া মাত্র।
নিজের বড় ভাবনা বা কাজের পরিধি সম্পর্কে বলতে গিয়ে কার্সন জানান, তিনি হয়তো নিজের বড় ভাবনার একটু পেছনে থেকেই কাজ করেন। এই ভাবনাগুলো তাঁর সামনে বিশাল ঢেউয়ের মতো তৈরি হয় এবং এমন এক সময়ে এসে আছড়ে পড়ে, যখন নিজেকে রক্ষা করার আর কোনো পথ থাকে না। লেখা প্রকাশ পাওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে তিনি জানান, এটি নির্ভর করে ঠিক কোন লেখার কথা বলা হচ্ছে তার ওপর। ‘আংকল ফলিন’-এর মতো পরিবেশনাভিত্তিক কাজের অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক হলেও বই প্রকাশ পাওয়ার অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা।
একটি বই প্রকাশিত হওয়াকে তিনি একটি অদ্ভুত ব্যাপার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি এমন কোনো নির্দিষ্ট সময় বা জায়গা নয় যাকে ধরে রাখা যায়। বন্ধুদের ডাকযোগে বই পাঠানোটা সুন্দর হলেও তা অনেকটাই কল্পনার মতো মনে হয়। বইয়ের পর্যালোচনা আসতেও পারে আবার নাও আসতে পারে, তবে তত দিনে লেখক হিসেবে তিনি হয়তো এর মধ্যেই পরবর্তী লেখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, কানাডিয়ান এই কবি পরবর্তীতে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদানের জন্য পরিচিতি লাভ করেন।

