সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো ভয়াবহ হামলায় এক পাইলটসহ অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নতুন করে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এই তথ্য জানানো হয়।
সৌদি সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চালানো প্রথম দফায় বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পরবর্তী হামলায় সরাসরি একটি উড়োজাহাজকে নিশানা করা হয়। হামলায় সৌদি নাগরিক ছাড়াও বিদেশি পর্যটকরা হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। আহত ব্যক্তিদের আঘাতের মাত্রা হালকা থেকে গুরুতর পর্যায়ের বলে জানানো হয়েছে।
হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই বিমানবন্দর হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরব সমর্থন দিয়ে আসছে বলেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইয়েমেনের জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারকে দেশটির ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় সহায়তা করে যাচ্ছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আলকালথামী রয়েছেন। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটি হামলার শিকার হলো। সংস্থাটির পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে পার্ক করা অবস্থায় তাদের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত ঘটনার সময় ওই উড়োজাহাজটিতে কোনো যাত্রী উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে হামলার পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সৌদিয়া গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে এই রক্তক্ষয়ী হামলা সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

