আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ওয়াশিংটন এই আকস্মিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই আদালতের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে এবং এর অর্থ ও সম্পদের সমস্ত উৎস বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার যেকোনো সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মার্কো রুবিও।
এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, আফগানিস্তানে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে আইসিসির চলমান তদন্তের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই তদন্তের পরিধিতে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টিকেও এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ব রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিসির মধ্যকার বিরোধ আরও তীব্র রূপ ধারণ করল। আদালতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

