বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৯ জনে, যা তিনশ'র কাছাকাছি। একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৩১ জন রোগী। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৭ হাজার ৮২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং দুজন নারী। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো মোট ২৯৯ জনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে নারীর হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পুরুষের হার ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ।
চলতি বছরের মাসভিত্তিক ডেঙ্গু মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেলেও মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এরপর মে মাসে একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নড়েচড়ে বসে। জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে বর্ষা ও অন্যান্য মৌসুমে পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটে। জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।
পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে সেপ্টেম্বর মাসে। ওই এক মাসেই ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪৮ জন রোগী। এছাড়া চলতি অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৫৪ জন। শীতের কাছাকাছি সময়েও ডেঙ্গুর এমন উচ্চ সংক্রমণ ও ধারাবাহিক প্রাণহানি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

